🟩 ভূমিকা: হাদিস নয়, কোরান—কেন এই প্রশ্ন উঠে?
আজকের মুসলিম সমাজে কোরানের গুরুত্ব নিয়ে কথা বললেই অনেকেই প্রশ্ন করেন—"আপনি কি হাদিস মানেন না?"
তারা আরও বলেন, “এত পণ্ডিত, এত আলেম কোরান পড়ে বুঝেননি—আমি কীভাবে বুঝি?”
কিন্তু প্রশ্ন হলো—আল্লাহ কি কোরান পাঠানোর পর ভেবেছিলেন, যে সাধারণ মানুষ নিজে কোরান বুঝতে পারবে না? বরং কোরান নিজেই বলছে, এটি সকল বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা।

কোরানের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করুন — হাদিস নয়, কোরানই জীবনের শ্রেষ্ঠ মাপকাঠি।"
🟩 কোরানই পূর্ণাঙ্গ ও যথেষ্ট – আল্লাহর ঘোষণা
"আমি তোমাদের প্রতি এক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি, যা সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা"। সূরা নাহল ৮৯ নং বাক্য।
"আল্লাহর বাণী ছাড়া আর কার কথার উপর তোমরা বিশ্বাসী হবে?" সূরা আ’রাফ ১৮৫ নং বাক্য।
এখানে আল্লাহ বারবার বলে দিয়েছেন, কোরানই যথেষ্ট। তাহলে হাদিস ছাড়া ইসলাম অপূর্ণ — এই ধারণা কি সত্যিই কোরানসম্মত?
🟩 রাসূলের দায়িত্ব: কেবল কোরান পৌঁছে দেওয়া
"রাসূলের দায়িত্ব তো শুধু স্পষ্টভাবে কোরান পৌঁছানো।" সূরা নূর ৫৪ নং বাক্য।
"তারা কোন বাণীতে বিশ্বাসী হবে এই কোরানের ছাড়া?" সূরা মুরসালাত ৫০ নং বাক্য।
এতে পরিষ্কার হয়—নবী মুহাম্মদ কেবল বার্তাবাহক ছিলেন, আইনপ্রণেতা নন। তাঁর কাজ ছিল কোরান অনুযায়ী আমল ও তা প্রচার করা।
🟩 কোরানই "আহসান আল-হাদিস" – সেরা হাদিসের দাবিদার
"আল্লাহ উত্তম বাণী অবতীর্ণ করেছেন আহসানুল হাদিস..." সূরা যুমার ২৩ নং বাক্য।
যখন কোরান নিজেই নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ হাদিস বলে পরিচয় দেয়, তখন মানুষের তৈরি হাদিস কীভাবে তার সমকক্ষ হতে পারে?
🟩 প্রকৃত অনুসরণ: কোরানই রাসূলের পথ
"বলুন, আমি কেবল এই নির্দেশ পেয়েছি যে, আমি এই কোরানকে অনুসরণ করি।" সূরা আন-আম ১৫৩ নং বাক্য।
"আপনি যা ওহী পেয়েছেন তা অনুসরণ করুন।" সূরা ইউনুস ১০৯ নং বাক্য।
রাসূল নিজেও কোরান মেনে চলেছেন। তাঁর ‘সুন্নাহ’ ছিল ওহীর অনুসরণ, কোরান অনুযায়ী জীবন যাপন।
🟩 হাদিস নিয়ে মতভেদ: কোরানচ্যুতি থেকেই বিভ্রান্তি
"তারা যেন নিদর্শনসমূহ নিয়ে চিন্তা করে এবং বোধসম্পন্নরা উপদেশ গ্রহণ করে।"
সূরা ছোয়াদ ২৯ নং বাক্য।
"তারা কি কোরান নিয়ে চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?"
সূরা মুহাম্মদ ২৪ নং বাক্য।
যেখানে কোরান চিন্তা করতে আহ্বান জানায়, সেখানে হাদিস-নির্ভরতা মানুষকে অনেক মতভেদে ফেলে দেয়। কারণ একেক হাদিস একেক কথা বলে।
🟩 কোরানই ন্যায়বিচারের মানদণ্ড
"আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের মধ্যে সে অনুযায়ী বিচার করেন যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।"
সূরা আন-নিসা ১০৫ নং বাক্য।
অর্থাৎ কোরানই হল ন্যায়বিচার ও বিধান দেয়ার একমাত্র দলিল।
🟩 উপসংহার: হাদিসবিরোধিতা নয়, বরং কোরানপন্থা
আমার লিখার উদ্দেশ্য হাদিসের বিরোধিতা নয়। বরং কোরানকে তার প্রকৃত মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। কোরানই ইসলাম, এবং রাসূলের প্রকৃত অনুসরণ মানেই কোরানের অনুসরণ। অতএব, বিভ্রান্তি এড়াতে আমাদের উচিত —
"একমাত্র কোরানই মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করা।"
![]() |


0 Comments