💦 ইসলাম জীবিকা নয়—দীন বিক্রির ভয়াবহতা ও কোরআনের সতর্কবার্তা

ভূমিকা

বর্তমান সমাজে এক দুঃখজনক সত্য হলো—ইসলামের নামে পেশাদারি। ওয়াজ, মাহফিল, জানাজা, বিয়ের খুতবা, দোয়া, তাফসির—সবই আজ নির্দিষ্ট মূল্য বা মজুরির বিনিময়ে হচ্ছে। অথচ কোরান সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দেয়। আল্লাহ বলেন—




ٱتَّبِعُوا۟ مَن لَّا يَسْـَٔلُكُمْ أَجْرًۭا وَهُم مُّهۡتَدُونَ

“তোমরা তাদের অনুসরণ করো, যারা তোমাদের নিকট পারিশ্রমিক চায় না এবং তারা সুপথপ্রাপ্ত।”
— সূরা ইয়াসিন: ২১

এটাই হবে মূল আলোচনার ভিত্তি। বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষনের চেষ্টায়।

১. নবীদের দাওয়াত: বিনিময়হীন ইসলামের প্রকৃত রূপ।

১. কোরানে স্পষ্ট ঘোষণা: নবীরা পারিশ্রমিক চায়নি।

কোরানে বহুবার নবীদের বাণী হিসেবে এসেছে—

قُلْ لَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا
“বল, আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না।”
— সূরা শুআরা: ১০৯, ১২৭, ১৪৫, ১৬৪, ১৮০

সকল নবী-রাসূলরাই দাওয়াত দিয়েছেন নিঃস্বার্থভাবে।

২. দীন ছিল দায়িত্ব, জীবিকা ছিল আলাদা।

সহি হাদিস থেকে জানাতে পারি নবী মুহাম্মদ নিজে গৃহস্থালি, ব্যবসা ও হিজরতে বহু কষ্ট সহ্য করে কোরানের দাওয়াত দিয়েছেন। কোনো নির্দিষ্ট পেশার মাধ্যমে দাওয়াতকে চালু করেননি।

৩. দাওয়াতের মাধ্যমে আর্থিক লাভের চেষ্টা ছিল না।

নবী রাসুলগন কখনও নিজেদের সুবিধার জন্য ইসলাম প্রচার করেননি। এমনকি নির্যাতিত হওয়ার পরও বিনিময়ের কথা বলেননি।

২. ইসলামকে পেশা বানানো: এক ভয়াবহ বিভ্রান্তি।

১. ওয়াজ, দোয়া, জানাজা—সবকিছু পণ্যে রূপ নিচ্ছে।

এখন ওয়াজ মাহফিলে বক্তারা পূর্বে টাকা চেয়ে চুক্তি করে নেন, জানাজা পড়াতে বা বিয়ে পড়াতে টাকা না পেলে অনেক সময় কাজ করেন না। যদিও এর ব্যাতিক্রম আছে।

২. ইমামতি বা খতিব হওয়াই জীবিকা: এটা ইসলাম সম্মত নয়।

ইমামতি মহান দায়িত্ব, কিন্তু সেটাকে বেতনভিত্তিক চাকরি বানালে তা দাওয়াতের পবিত্রতা হারায়।

৩. ‘আলেম’ নামধারী ব্যবসায়ী ও প্রভাবিত ইসলাম।

অনেক ইসলাম প্রচারক আজ বিত্তবানদের পক্ষে কথা বলেন, ঘুষ বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকেন। কারণ -- চাকরি বা সম্মান হারানোর ভয়ে।


৩. কোরআনের হুশিয়ারি: দাওয়াত কখনোই মজুরি নির্ভর নয়।

১. সূরা ইয়াসিনের বার্তা: অনুসরণযোগ্য হলেন যারা বিনিময় চান না।

اتَّبِعُوا۟ مَن لَّا يَسْـَٔلُكُمْ أَجْرًۭا وَهُم مُّهۡتَدُونَ
“তাদের অনুসরণ করো, যারা পারিশ্রমিক চায় না...” সুরা ইয়াসীন ২১

 

এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ দাওয়াতদাতার মানদণ্ড দিয়েছেন।

২. সূরা লুকমান ও শুআরা তাফসিরে স্পষ্ট বার্তা।

আল্লাহ কোরানে বলেছেন, তিনি তাঁর রাসূলদের মাধ্যমে বিনিময় চাওয়া হারাম করেছেন।

৩. বিনিময় চাওয়া মানে হেদায়াত থেকে বিচ্যুতি।

যিনি দাওয়াত দিয়ে অর্থ চান, তিনি বাস্তবে আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে দুনিয়ার লোভে কাজ করেন।

৪. ধর্মব্যবসায়ীরা সমাজে সত্য চাপা দেয় কিভাবে?

১. ঘুষখোর ও জালিমদের বিরুদ্ধে নীরবতা।

বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, বা সমাজের নানান অর্থপিপাসু কিছু আলেম-সমাজ ঘুষ বা দুর্থানীতির কথা বলে না, ক্ষমতাবানদের অন্যায়ের বিপক্ষে অবস্থান নেয় না।

২. যাকাত-সাদকা ব্যবহার হয় ‘প্রকল্প’-এর নামে।

বহুলাংশে দেখা যায় 'মসজিদ' বা ‘মাদ্রাসার’ নাম ভাংগিয়ে যাকাত, ফেতরা, দানের অর্থ কালেকশান করে—এটা সরাসরি ধর্মব্যবসা।

৩. সত্য না বলা মানেই আল্লাহর নির্দেশ অমান্য।

وَلَا تَكْتُمُواْ ٱلْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
“তোমরা যদি জানো, তবে সে সত্য গোপন করো না”
— সূরা বাকারা: ৪২

৫. সত্যদায়ী আলেমদের বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিত

১. আল্লাহভীরুতা যার মূল চালিকা।

একজন মুমিন, মুসাল্লি, ধর্মগুরু, বিশ্বাসী মানুষ শধু আল্লাহকে ভয় করবে, কাউকে খুশি করার জন্য কথা বলবে না।

২. জীবিকা হবে আলাদা, দাওয়াত হবে আমানত।

একজন ইসলামের দাওয়াতী, ধর্মীয় নেতা, কিংবা কোরান প্রচারক অথবা মসজিদের ঈমাম, তাঁরা নিজের জীবিকা অন্যভাবে উপার্জন করবেন, ইসলামকে কখনোই আয়ের মাধ্যম বানাবেন না।

৩. সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নির্ভীক অবস্থান।

আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন ----

وَقُولُوا۟ قَوْلًۭا سَدِيدًۭا
“সঠিক এবং ন্যায়সঙ্গত কথা বলো।”
— সূরা আহযাব: ৭০

 


উপসংহার

ইসলাম কখনোই পেশা ছিল না, বা কখনও হবারও নয়। যাঁরা ইসলাম নিয়ে ধর্মব্যবসা করছেন, তাঁদের জন্য কোরানে ভয়াবহ পরিণতির বার্তা আছে। ইসলাম হেদায়াত, ব্যবসা নয়। সত্যকে বিক্রি করা নয়, প্রচার করাই ইসলামের আসল উদ্দেশ্য।।

মন্তব্য ---ইসলামকে যখন একটি ব্যবসা বা পেশায় পরিণত করা হয়, তখন তার আত্মা হারিয়ে যায়। নবী-রাসূলদের উত্তরাধিকার শুধু জ্ঞানের নয়, বরং নিঃস্বার্থ দায়িত্ববোধের। যারা এই দায়িত্বকে পণ্যে রূপান্তর করে, তারা আল্লাহর দেওয়া বিধানকে অবমাননা করে। তাই আমাদের প্রতিটি মুসলমানের উচিত সত্যকে নির্ভয়ে বলা, বিনিময়হীনভাবে আল্লাহর কিতাব প্রচার করা, এবং ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করা—পেশা নয়।

প্রশ্ন: -----ইমামতিতে/ওয়াজে বা ইসলামী কোনো দাওয়াতে অথবা প্রচারে টাকা নেওয়া কি হারাম?

উত্তর: ----যদি জীবিকা না হয়ে, বরং দাওয়াতই মূল উদ্দেশ্য হয়—তবে স্বেচ্ছায় দেওয়া উপহার বৈধ। কিন্তু চুক্তিভিত্তিক টাকা নেওয়া বা দাওয়াতকে পেশা বানানো কোরানের বিপরীত।।

  • আপনার মতামত নিচে মন্তব্যে জানান।
আরও এমন লেখার জন্য আমাদের ব্লগটি নিয়মিত পড়ুন:
👉 QReflects ব্লগ: https://qreflects.blogspot.com